অঞ্চল ভেদে মানুষের আচার আচরণ, ব্যবহার,ইশারা ইঙ্গিত সবই পার্থক্য হয়ে থাকে।এ পার্থক্যের বহিঃপ্রকাশই স্হানীয় ভাষা বা আঞ্চলিক ভাষা নামে পরিচিত।
ইতিহাস +++++
বাংলাভাষার প্রাচীনতম সাহিত্য নিদর্শন চর্যা পদের একাধিক পদে ভাটিয়ালি গানের প্রাচীনত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়।৬৫০ থেকে ১২০০ খৃিষ্টাব্দ পর্যন্ত বাংলাদেশে চর্যাপদের রচনা ও পরিবেশন প্রচলিত ছিল।এ কথা সত্য পূর্ব বাংলার সর্বাপেক্ষা নিজস্ব উল্লেখযোগ্য সংগীতটিই ভাটিয়ালি।
বাংলার প্রাচীন গীতিসাহিত্যের অভূতপূর্ব নিদর্শন বড়ু চণ্ডিদাসের শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন কাব্যে ভাটিআলি নামে একটা রাগের উল্লেখ আছে।শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন রচিত হয়েছে ১৩০০ থেকে ১৪০০ খ্রীষ্টাব্দে যা চর্যাপদের পর।
বাংলা গানের সঠিক উৎপত্তির ইতিহাস বা দিন- তারিখ এর প্রমাণ নাই।লিখিত ভাষার হাজার বছর আগেও মৌখিক ভাষায় গানের যে ধারা ছিল তা এখনকার থেকে আলাদা।
চর্যাপদ হল পুঁথিকাব্য এবং এই পুঁথিকাব্যই বাংলাগানের প্রথম লিখিত নিদর্শন। চর্যাপদের পদকর্তাদের সিদ্বাচার্য।সহস্রাব্দ পর্যন্ত পুঁথিপাঠের ধারা প্রচলিত হওয়ার পর শুরু হয় বাংলার প্রাচীন সংগীত ধারা।এ ধারা ছিল মুলতঃ স্তোত্রসংগীত যা বৈষ্ণব ধর্মগীতির ধারক ও বাহক হিসাবে পরিচিত। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে কবি জয়দেব রচিত গীতিগোবিন্দম তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
মধ্যযুগ ছিল নবাব ও বার ভূইয়া খ্যাত ভূ্স্বাস্বামীবর্গদের দাপট।এ ধারায় হিন্দু ও মুসলিম ধর্মীয় সাংগীতিক রীতি চর্চা করা হয়।এ যুগে সুফি গানের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।রাধা কৃষ্ণ বিষয়ক গানে জাগতিক ও আধ্যাত্মিক প্রেমচেতনার আবেগময় উপস্হাপন লক্ষ্যকরা যায়।বৈষ্ণব জীবাত্মা-পরমাত্মাকেন্দ্রিক প্রেমভক্তির প্রচার করে।তখন তন্ত্র ও শ্রদ্ধায় মাতৃভক্তির সম্মিলন ঘটে।১৮ ও ১৯ শতকে নতুনধারার ভক্তিমুলক বাউল গানের আবির্ভাব হয়।ফকির লালন সাঁই ঘুরে ঘুরে গান গাইতেন এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন।মধ্যযুগের হাসন রাজা,আধুনিক যুগের শাহ আবদুল করিম, পুর্নদাস বাউল অধিক জনপ্রিয় ছিলেন।
এর পরই শুরু হয় রবীন্দ্র, নজরুলদের যুগ।পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের নিজস্ব ভাবধারার গান এনেছেন আব্বাসউদ্দিন।
তারপর আসলো ব্যান্ড সংগীতের যুগ যা যুবক ও তরুনদের মাঝে ততোধিক জনপ্রিয়।আজমখান ও আখন্দ ভাতৃদয়ের হাত ধরে এদেশে ব্যান্ড সংগীতের যাত্রা শুরু হয়।
উপসংহার ******
মিশ্র সংস্কৃতির সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে বর্তমানের সংগীত। পুরনো গীতিকাকে বিভিন্ন গীতিকার মিশ্রণে উপস্হাপন করা হচ্ছে। এতে সেই হ্রদ্যতা আবেগ আর পাওয়া যায়না।আধুনিক বাদ্যযন্ত্র ও উপস্হাপন শৈলির ভিড়ে এখনো আঞ্চলিক বা লোকগীতি মানুষের মনের অধিকাংশ জায়গা দখল করে আছে।
No comments:
Post a Comment