গালাগালির ব্যবহার
শব্দগুলো খুবই কুরুচিপূর্ণ। শুনলে কানে তালা লেগে যায়।লজ্জায় মাথা হেট হয়ে যায়।চোখ নীচু হয়ে যায়।বেশিরভাগ শব্দই নারী সংশ্লিষ্ট। নারীর চরিত্রগত স্বীকৃত দোষ বা ত্রুটি নিয়ে গঠিত। ঢাকা শহরে খানকি পোলা, কুষ্টিয়ায় বাড়া, বাড়ার বাল, গা সওয়া অত্যধিক ব্যবহৃত গাল। আরবি, ফার্সি, হিন্দি, উর্দু সব ভাষাতে বাল হল চুল বা কেশ বাংলাতে এসে তা হয়ে গেল যৌনকেশ যা গালি হিসেবেই বেশ সমাদৃত। আবার মিরজাফর, মোস্তাকি, রাজাকার, বেলুচিস্তানের কসাই শব্দগুল অভিজাত ও মানবকল্যানী কিন্তু সোশিওপলিটিক্যাল অমানবিক আচরনের কারনে শরিফ শব্দগুলো গালিতে রুপান্তরিত হয়েছে। তবুও এর ব্যবহার খুবই দরকারি। উপকারী দিকও আছে।
যেমন --------
১) আপনি প্রাপ্য জিনিষ ঘুষ ছাড়া আদায় করতে পারছেননা।যেমন- সার্টিফিকেট। আবার প্রতিবাদও করতে পারছেননা। রাগে দুঃখে ঘুষ দিয়ে সার্টিফিকেট নিয়ে মনে মনে শালার পুত বা বেজন্মা বা চোদানির পুত বলে গালি দিতে দিতে বেরিয়ে আসুন।আপনার প্রেসার বাড়বেনা।
২) বাজারে গিয়ে ঠকে আসলেন।নিরবে হজম করে কুত্তার বাচ্চ বা শুয়োরের বাচ্চা গালি দিয়ে হার্টের উপর চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন।
৩) রাস্তায় বের হয়ে কোন ক্ষতির সম্মুখিন হলেন, ছোট লোকের বাচ্চা বা বাষ্টাড বলে মনকে শান্ত রাখতে পারেন।
৪) পুলিশ বা আদালতে অন্যায়ভাবে হেরে গেলেন তবে অমানুষ বা অজাত বা মগের মুল্লুক বা মাদারী বলে নিরবে চলে আসুন অন্তত শরীরটা ভাল থাকবে।
৫) স্বামী নির্যাতন করছে সীমাহীন। অন্তত মাগীর পুত বলে একটা গালি দিলেও মনে শান্তি পাওয়া যায়।
৬) শাশুড়ি নির্যাতন করছে বা বউমা বেপরোয়া। একে অপরকে বেশ্যা বলেও প্রতিবাদ করতে পারেন।
এসব শব্দগুলো নিপীড়িত ও নির্যাতিত মানুষের প্রতিবাদ সূচক ভাষা।
উৎপত্তির ইতিহাস ****
অপরিশীলিত ও অশ্লীল শব্দগুলোই সমাজে লোক মুখে গালাগাল নামে পরিচিত। বাংলা ভাষা এতোটাই সমৃদ্ধ যে অশালীন শব্দ বা গালিগালাজ আমাদের বাগধারা ও লোকশ্লোক সাহিত্যে ব্যাপক ব্যবহার ও সমাদৃত হয়েছে।ভব্য বা গালি , ভাল বা মন্দ, পাপ বা পুণ্য, বিশ্লেষণে জনপ্রিয় বাউল সাধক লালন ফকির বলেছেন ----
এ দেশে যা পাপ গণ্য
অন্য দেশে পুণ্য তা-ই।
পাপ পুণ্যের কথা আমি,
কাহারে সুধাই।
দেশ সমস্যা অনুসারে
ভিন্ন বিধান হতে পারে।
সূক্ষ্মভাবে বিচার করলে পাপ- পুণ্যের নাই বালাই।
অর্থাৎ - ভাল-মন্দ, পাপ-পুণ্য, শ্লীল- অশ্লীল, গালি- আদর এসবের আবেদন, বোধ বা ব্যাখ্যা আপেক্ষিক। যেমন মাগী শব্দটি সর্বমহলে উৎকৃষ্ট গালি হিসেবে জনপ্রিয় হলেও রংপুর ও তার আশেপাশের অঞ্চলে ঘরের আদুরে ও লক্ষী বউকে মাগী বলার রীতি চলমান।সহজ সরল মানুষকে অপমান করার জন্য বলে ভোদাই।অবাক বিস্ময়ে মেয়েদের দিকে তাকিয়ে থাকলে তাকে ঢেলাবারানি বলে গালি দেওয়া হয়। নির্লজ্জকে বলে চশমখোর🤑।
কবি- সাহিত্যিকদের ব্যবহার*****
রবি ঠাকুর তার বউ ঠাকুরানীর হাট উপন্যাসে কটাক্ষ হিসেবে মাগি শব্দটি ব্যবহার করেছেন।কবি শামসুর রহমান তার এই মাতোয়ালা রাইত কবিতায় খানকি মাগি, হালায়, মাদদির পো, হোগা ইত্যাদি গালির সুনিপুণ গাঁথুনি দিয়েছেন। মালঞ্চ উপন্যাসে বেহায়াগিরি, গোরাতে ড্যাম শুয়ার ও পশুবৎ মূঢ় গালি হিসাবে ব্যবহার করেছেন।জসিম উদ্দিনের - ওরে মুখপোড়া ওরে ও বাদর। মায়ের এমন আদরমাখা গালি সাহিত্যকে করেছে সমৃদ্ধ ও উপভোগ্য।
বিদেশি গালি ****
বাইনচোদ এসেছে বিদেশি শব্দ থেকে।প্রথমে বায়েনচোদ তারপর বাহিনচোদ শব্দের রুপান্তর।আরবি,ফার্সি,হিন্দি ও উর্দুতে বাহিনচোদ বলতে - যে পুরুষ বোনকে ধর্ষন করেছে।😭😭। উল্লক কা পাঠা, গিদ্দার কি বাচ্চে, সালে বাঙ্গালে, বেইমান ইত্যাদি। ইংরেজরা অন্যায় আচরন বা খুনসুটি করলে গালি দেয় কান্টেলি বলে।জটিল - কুটিল মানুষকে বলে খিটকেল যা critical থেকে হয়েছে ।বোথেল মাগি এসেছে brothel থেকে, লোটি মাগি এসেছে noughty থেকে এবং বালেষ্টর এসেছে barrister শব্দ থেকে।
বাংলায় গালি সংক্রান্ত বই *****
গালি অভিধান, বাংলা অকথ্য ভাষা ও শব্দকোষ, বাংলা স্ল্যাং সমীক্ষা ও অভিধান, অপরাধ জগতের শব্দকোষ, যথা শব্দ, অশ্লিল লোকছড়ায় সমাজচিত্র, ধমনী ( গালিনামা), বাঙালনামা ইত্যাদি।
এদের সংরক্ষন করুন।
No comments:
Post a Comment