Followers, Like

Tuesday, February 21, 2023

উপড়িতে স্বপ্ন বাঁধি

 উপড়িতে স্বপ্ন বাঁধি।


ফেব্রুয়ারি মাস।শোকের মাস।আন্তর্জাতিক ভাষা রক্ষা মাস।মায়ের ভাষা রক্ষা ও প্রতিষ্ঠা করার মাস।নিজেকে উদ্দিপ্ত করার মাস।জড়তা,জির্নশির্ন নীতিমালা ভেন্গে নতুন করে বেঁচে থাকার শপথ নেওয়ার মাস।


সেদিন মাসের উনিশ তারিখ ছিল।নাতিশীতোষ্ণ সন্ধ্যা ছিল।সরকারি চাকুরিজীবী হাস্যোজ্জল মুখে প্রশান্তির কন্ঠে বলল - এখনো ব্যাংক থেকে বেতন তুলিনি।চলে  যাচ্ছে আল্লাহর রহমতে।বরকতে।আমি মনে মনে ভাবি। চতুর্থ শ্রেণীর চাকরি অথচ চালচলন কথাবার্তা ও ভাবসাব যেন প্রথম শ্রেণীর নাগরিক। সাধারণ মানুষের অবস্হা নাভিশ্বাস। অথচ ওনার পুরো বেতন এখনো অক্ষত।কিভাবে সম্ভব? 

উপড়িতে এতো বরকত।বরকতে এতো সালাম। রফিকদের দীর্ঘশ্বাস।


ঘুষের উৎপত্তি ==== 

উৎকোচ থেকেই ঘুষ এর উৎপত্তি। বাংলা অভিধান মতে নিজের কোন অন্যায় কাজকে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে যে অর্থ প্রদান করা হয় বা কোন কাজে সাহায্য লাভের জন্য বা কার্যসিদ্ধির জন্য গোপনে দেওয়া পুরষ্কার বা অর্থকে বুঝায়।যে ঘুষ নেয় তাকে বলে ঘুষখোর। 

প্রাচীনকালে রাজা বাদসাদের দরবারে সাক্ষাতের সময় নজরানা বা উপঢৌকন দেওয়ার প্রচলন ছিল। ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ঘুষের বিনিময়ে কাজ করতো প্রমাণ পাওয়া যায়। মীর জাপরের মৃত্যুর পর মুন্নি বেগম তার পুত্রের সিংহাসনের জন্য রবার্ট ক্লাইভকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়েছিলেন। 


ঘুষের ক্ষতিকর দিক ======


ঘুষ একটি অভিশাপের নাম। মারাত্মক সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যাধি। এর প্রভাবে মানুষে মানুষে দয়া মায়া বিনষ্ট হয়। নীতি নৈতিকতা, আইন কানুন, বিধি বিধান সব কিছুই ক্ষতি গ্রস্ত হয়।ঘুষ মানুষকে সীমাহীন লোভী করে তোলে। জাতীয় উন্নয়ন বাধা গ্রস্ত হয়। ঘুষের কারনে যোগ্যতার মূল্যায়ন হয়না। দুর্নীতির প্রধান কারন হচ্ছে ঘুষ। ঘুষ দিয়ে দুর্নীতিবাজরা পার পেয়ে যায় এবং দেশের ক্ষতি করে যায় অনবরত। 


ঘুষ নিয়ে রসিকতা === 

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার মহাত্মা গান্ধী এক সভায় বলেছিলেন > ঘুষ নেয়া অন্যায় । কিন্তু সেখানে উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শুনেছেন এইভাবে > ঘুষ নেয়া অন্য আয়। যে কারনে ঘুষ থেকে ভারতবর্ষ বের হতে পারেনি আজো। 

এক তরুণ ব্রিটিশ মজাগিস্ত্রেত এ দেশে এসেছেন বিচার কাজ পরিচালনা করতে। কিছু বাঙলা শিখেছেন। হঠাত চাপরাশি হন্তদন্ত হয়ে তার কাছে নালিশ দিল হুজুর মিস্টার নাজির ইজ ইটিং ঘুষ।বিচারক ঘুষ কি কিছুতেই বুঝতে পারলেন না। চাপরাশিও বুঝাতে পারেনি। তাই বিচারক গেল নাজিরের রুমে।দেখেন ঘুষ হিসাবে পাওয়া এক কাঁদি কলা নাজির খাচ্ছে। বিচারক ধরে নিলেন কলাকেই ঘুষ ব্লা হয়। কলা সম্পর্কে বিচারকের ভাল ধারনা আছে। তাই বিচারক উচ্ছ্বাসের সাথেই বললেন > ওহ আই থিংক সামথিং রং । বাট ইউ আর এটিং ঘুষ। ঘুষ ইজ গুড ফর হেথ। এভ্রিবডি মাস্ট ইট ঘুষ। 


এ জন্যই মনে হয় আমরা ঘুষ খেয়েই যাচ্ছি, খেয়েই যাচ্ছি। 

একাত্তরের মা জননী, কোথায় তোমার মুক্তি সেনার দল??

No comments:

Post a Comment